মুজিব ইরমের কবিতা
Reading Time: 2 minutes
মুজিব ইরমের প্রকাশিতব্য বইয়ের পাণ্ডুলিপি থেকে পাঁচটি কবিতা

মুজিব ইরম

আমার নাম মুজিব ইরম

আমি একটি কবিতা বলবো

এঁকে রাখি পাখি। ফুলপাতা বাকি। তুলে আনি গাছ। চিরচেনা মাছ। জলে ভাসা ফুল। গন্ধ বকুল। মাঠে মাঠে হাওয়া। সুর খুঁজে পাওয়া। গাছে গাছে ফল। ডাকিছে সকল। ডাকে প্রিয় খেলা। সেই হুরুবেলা। আছি এত দূরে! ডাকি সুরে সুরে। মনে রেখো দেশ। ভাই বন্ধু খেশ। তোমাদের মায়া। স্নেহ ভরা ছায়া। জপি দমে দম। মুজিব ইরম।

১টি পুরান পদ্য

তোমায় আমি নিয়ে যাবো বাইক্কা বিলে, পদ্মফোটা স্বচ্ছজলে, মাছগুলো সব ঝিম ধরে রয় শীত দুপুরে, বকগুলো সব ধ্যানী রোদে ঝিম মেরে রয় সন্ধ্যা হলে, ওদের সাথে হবে দেখা, নৌকা করে ঘুরতে যাবো গহীন বিলে, যদি তোমার মন না-মজে বিলের জলে, নিয়ে যাবো চা বাগিচায়, ছড়ার জলে, বালির স্রোতে, গভীর বনে, লাউয়াছড়ায়, মাধবকুণ্ডে, মেঘালয়ে, পানতুমাইয়ে, সারি নদী, রাতারগুলে, বিছনাকান্দি, লালাখালে, জৈন্তাপুরে, মনু নদী, ধলাই নদী, পিয়াইন নদীর পাড়ে পাড়ে।

সিলট্যা এই মানু আমি, তোমার কদর করবো আমি কমলা লেবু, কাগজী লেবুর শীতল জলে। তোমার তরে কান্দে আমার মন, আমার বাড়ি, ও বন্ধুয়া, তোমার নিমন্ত্রণ।

খাতিরদারি

আমি যাবো তোমার বাড়ি, তুমি রাঁধো মসুর ডাল, বানাও চিতল পিঠা, লেটা দিয়ে বসবো মেঝেয়, উন্দাল ঘরে, খেতে চাইবো উন্নি গরম ভাতে চিতল মাছের পেটি, বোয়াল মাছের কুর, হাইল হাওরের কৈ, হাকালুকির আইড়, চাতলা বিলের পাবদা পুঁটি, কাউয়া দীঘির রুই, মনু নদীর কেচকি চিংড়ি, সুরমা নদীর বাঘ, কুশিয়ারার ওই ঘাগলা ইলিশ, রানী মাছের ঝোল।

রাঁধো তুমি পশু হাইলের ভাত, ঘ্রাণে যেন ভরে ওঠে তোমার উন্দাল ঘর, রাঁধো তুমি কালিজিরার ভাত, নি চাউলের জাউ, স্বাদে যেন ফিরে আসে আমার স্মৃতিবেলা, ঘ্রাণে যেন ফিরে আসে আমার হুরুবেলা।

১টি সহজ পদ্য

বৈশাখ মাসে উজাই মাছের ঢল, জল করে কলকল, আমি তোমায় দেখি না! পদ্মফোটা জল, বুক করে টলমল, আমি তোমায় দেখি না!

বৃষ্টিভেজা কদম জারুল ফুল, আমি তোমায় দেখি না! শরৎবেলার মেঘ, আমি তোমায় দেখি না! শিমুল ফুলের রঙ, আমি তোমায় দেখি না!

খুব সাধারণ বৃষ্টি নামা রাত, কুয়াশা নামা ভোর, জোছনা ধোয়া মেঘ, আমি তোমায় দেখি না! ও আমার শৈশবেরই ফুল, নাম করি ভুলটুল, আমি তোমায় দেখি না!

আমি ঘর হারানো লোক, কষ্টে ভরা বুক, আর কিছু নয় নিত্য জপি – বাড়িছাড়া মানুষগুলোর মনটা ভালো হোক।

আহাজারি

যে পুকুরে কলমি লতা ভাসে, যে পুকুরে কাঁঠাল ছায়া হাসে, যে পুকুরে পানা ফুলের ঢেউ, যে পুকুরে জোছনা ভাসায় কেউ, যে পুকুরে নাই হয়ে যায় চিতল মাছের ঘাই, আমি তারে লিখতে পারি নাই।

জাম্বুরা ফুল কেমন করে ফোটে, ভাটি ফুল কেমন করে চিত্তমায়া লুটে, কেমন করে শুকনা খালে ফুলের দেখা পাই, আমি তারে লিখতে পারি নাই।

ইরি ক্ষেতে পাকনা ধানের হাসি, মাছ চলাচল করে, নিঝুম সন্ধ্যায় বৃষ্টি জলে ভাসি, জল ফিসফিস করে, রোদ থৈ থৈ রোদ থৈ থৈ ডাক শুনতে পাই, আমি তারে লিখতে পারি নাই।

ও আমার বিল ভাসানো নয়া পানির রূপ, কোড়া ডাকে কোড়া ডাকে দুপুর বেলা চুপ, ও আমার রাস্তা ডুবা হঠাৎ ঢলের স্রোত, কোথায় গেলো কোথায় গেলো, তার দেখা ফের চাই, আমি তারে লিখতে পারি নাই, আমি তারে লিখতে পারি নাই।

Leave comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *.